বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ‘ বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন (Bangladesh Commission on Higher Education) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রকাশ করে। এ–সংক্রান্ত এক চিঠিতে জানানো হয়, খসড়া অধ্যাদেশের বিষয়ে আগামী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে মতামত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠাতে হবে।
খসড়া অনুযায়ী, প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান, আটজন কমিশনার এবং দশজন খণ্ডকালীন সদস্য নিয়ে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেবে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।
খণ্ডকালীন সদস্যদের মধ্যে থাকবেন—সরকার মনোনীত তিনজন প্রতিনিধি (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদমর্যাদার নিচে নয় এমন একজন প্রতিনিধি); কমিশন কর্তৃক মনোনীত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের মধ্য থেকে তিনজন; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের মধ্য থেকে দুইজন; এবং যেসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন সদস্য মনোনীত হননি, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রথিতযশা অধ্যাপকদের মধ্য থেকে দুইজন।
খসড়ায় বলা হয়েছে, সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত শর্তে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁরা দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নিয়োগের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন।
চেয়ারম্যান পদের যোগ্যতা হিসেবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান, পিএইচডিধারী শিক্ষাবিদ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তত ২৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, এর মধ্যে অধ্যাপক হিসেবে ন্যূনতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা, গবেষণা তত্ত্বাবধানের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা, স্বীকৃত প্রকাশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
খসড়া অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমপদমর্যাদাসম্পন্ন হবেন, তবে তিনি মন্ত্রী হবেন না। সে অনুযায়ী তিনি বেতন–ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা পাবেন। চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা দায়িত্ব পালনে অপারগতার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতম কমিশনার সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিশনার পদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে অন্তত ২০ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, এর মধ্যে অধ্যাপক হিসেবে ন্যূনতম ১২ বছরের অভিজ্ঞতা, গবেষণা তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, কমিশনাররা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সমপদমর্যাদা পাবেন। তাঁরা চেয়ারম্যানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁদের কাজের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।